শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সোনাডাঙ্গার জঙ্গলে

আহমদ মতিউর রহমান

দুপ করে একটা শব্দ হলো। আধ শোয়া থেকে ধড়মড়িয়ে ওঠে আজিম। চারদিকে অন্ধকার। সে কোথায় আছে ঠাহর করতে পারছে না। ভালো করে তাকিয়ে দেখে একটা জঙ্গলমতো জায়গা, আশপাশে ঘুটঘুট্টি অন্ধকার। আকাশের দিকে তাকিয়ে সময়টা মাপার চেষ্টা করল। কিন্তু বুঝতে পারছে না এখন ভোর না সন্ধা। ভোর বা সন্ধার ঠিক আগের মুহূর্ত। 

এবার চোখ গেল একটা বস্তার দিকে। হ্যা ওটা বস্তাই তো! আরো মুশকিলের কথা বস্তা থেকে মানুষের একটা হাত বের হয়ে আছে। তবে মানুষটা মনে হয় বেঁচে নেই। এমনটা মনে হলো তার। তার মানে এই জনমানবহীন স্থানে কেউ লাশ ফেলে গেছে? 

ভয়ে কুঁকড়ে যায় আজিম। এখানে কি করে এল তার কিছু মনে পড়ছে না। তার বাড়ির লোক বা বন্ধুরাই কে কোথায় তাও তার মনে নেই। 

ভূতুড় পরিবেশ। 

বস্তায় লাশ।

ভারি ভয় করতে লাগলো আজিমের। আবছা আলোয় সে খেয়াল করে আশপাশে কিছু গাছপালা রয়েছে। বাড়িঘর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। গাছপালা যখন আছে তখন এটা কোনো বনাঞ্চল হবে হয়তো। তাদের গ্রামের বাড়িতে প্রচুর গাছ আছে। কিন্তু এখানকার চিত্রটা গ্রামের সাথে মিলছে না। 

এই ভূতুড়ে পরিবেশ, গাছপালা অন্ধকার সবকিছু মিলিয়ে ভয়ের একটা আবহ। একটা ঠান্ডা ¯à§à¦°à¦¾à§‡à¦¤ আজিমের শরীর বেয়ে নিচে নেমে গেল। মানে সে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু আজিম তো এত ভিতু নয়। আর ভূত-প্রেতে মোটে বিশে^স নেই তার। ভূত-প্রেতের নামে কত বাঁদরামি সে আর বন্ধুরা গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে ধরেছে। 

আজ মনে হচ্ছে সে তা করতে পারছে না। গোয়েন্দা হতে গেলে ঘটনা লাগে। দুষ্টু মানুষ বা অপরাধী লাগে, থানা লাগে, পুলিশ লাগে। বিচার প্রার্থী লাগে। আর ওর অন্য বন্ধুদের লাগে। বন্ধুদের দেখাতে না পারলে গোয়েন্দাগিরিতে মজা নেই। এখানে তো কোনো কিছুই নেই। গোয়েন্দা হবার চিন্তা বাদ দিয়ে বসে থাকে আজিম। 

এবার ভাবতে থাকে লাশটা কার? কোনো কিশোর বা বুড়ো মানুষের? না এখান থেকে দেখে বোঝা যাচ্ছে না। লাশের যে হাতটা বস্তা থেকে বের হয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে তা কত বছর বয়সী মানুষের হতে পারে? 

তার মনে পড়ে যায় একবার খুলনায় চাচার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পশুর নদীর তীরে একটি লাশ দেখে ভয় পেয়েছিল আজিম। লাশটা ছিল সুন্দরবনের ঘন জঙ্গুলে এলাকার কাছে। সবার ধারণা বাঘে কিছু অংশ খেয়ে কিছু অংশ ফেলে গেছে। ভোরে হাঁটতে বের হয়ে এ চিত্র দেখে অবাক হয়েছিল আজিম। শহরটার নাম মুন্সিগঞ্জ। সুন্দরবনের পাশ ঘেঁষে শহরটা। অবশ্যই ছোট শহর। তার ছোট চাচা ফরেস্ট রেঞ্জ এ চাকরি করেন। সে সুবাদে এখানে থাকা। কয়েক দিনের জন্য সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল আজিম। 

সাতক্ষীরা শহর পেরিয়ে যতই যেতে থাকা হবে বঙ্গপোসাগরের কোল ঘেঁষা সুন্দরবনের সীমায়, ততই মোহিত হয় মানুষ। সেখানে আজিম একটা কবিতা শুনেছিল। 

দেশের সীমানা নদীর ঠিকানা

যেথা গিয়েছে হারিয়ে

সেথা সাতক্ষীরা রূপমায়া ঘেরা

বনানীর কোলে দাঁড়িয়ে। 

এটা নাকি কোন অজ্ঞাত কবির লেখা।  এই চরণগুলো যে কাউকে দাঁড় করাবে সুন্দর সত্যের মুখোমুখি। জানতে চাইবে মানচিত্রের সবুজ যে দেশের প্রাণ, সে দেশের সবুজ কতো সুন্দর, মোহময়, উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত। (চলবে)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ